.      বাংলা ১৩২১ সন ৩০ শে বৈশাখ বুধবার রাত্রিবেলা মহাত্মা গুরুনাথ গোয়ালগ্রামে পৌঁছালেন। এবারের মিলনোৎসব এখানে বিনোদবাবুর গৃহে অনুষ্ঠিত হইতেছে। গোয়ালগ্রাম মহাত্মা নিবারণের কর্মস্থল। মিলনোৎসবের একদিন পরে ২-রা জৈষ্ঠ্য শনিবার গুরুদেব সকলকে অনাথ করিয়া পরলোকগমন করিলেন।


    তিরোধান দিবস পালিত হইলেও মহাত্মা গুরুনাথের পরলোকগমন দিবস কখনো উৎসব আকারে পালিত হয় নাই। আদিষ্ট সাধক এই কারণে, ৩ বছর ধরিয়া, মিলনোৎসব সহিত গুরুনাথে তিরোধান দিবস যুক্ত করি "মহামিলনোৎসব"-এর স্থাপন করিলেন। উৎসব আকারে গুরুদেবের তিরোধান দিবস পালন না করিতে পারার গোপন বেদনা, আর বহিয়া বেড়াইতে হইবে না।


      মহামিলন অর্থাৎ প্রথমে পরমপিতার সহিত গুরুদেবের মিলন হইবার কারণে এই মিলনোৎসব কিন্তু পরবর্তী কালে স্থূল দেহ ত্যাগ করিয়া তিনি অনন্ত কারণ-লোক মহামিলনে গমন করিলেন সুতরাং এই মহান নামকরণ করা হইল।


  .         একাকী নিরালায় মহাত্মা নিবারণ গুরুদেবকে জিজ্ঞাসা  করিলেন,"আমার মন এত খারাপ লাগিতেছে কেন? আপনি কাছে থাকিলে, কোনও দিন আমার এতো খারাপ লাগে না তো? বাড়িতে আমার স্ত্রী অসুস্থ আছে,মারা গেল নাকি?


          সেই দিনই মহাত্মা গুরুনাথের তিরোধানের পরে মাষ্টারমশাই বুঝিতে পারিলেন কেন তখন তাহার এতো খারাপ লাগিতেছিল। ইহাকেই বলা হয় স্বর্গীয় অভেদ জ্ঞান।


         মহাত্মা গুরুনাথ সৎসতী গণের উন্নতির লক্ষ্যে একমাস অধিকাল ধরিয়া টানা অধিবেশনের কথা বার বার লিখিয়াছেন কিন্তু যে কারণেই হউক ঐ কার্যক্রম সম্পন্ন হয় নাই। 


        আদিষ্ট সাধকও ইং-২০১৮ সালে গোবরডাঙ্গায় উদয়-অস্ত বীজ জপের পরে, গুরুদেবের এই পুনঃনির্দেশ সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করেন। তাহাতে চন্দন বলে, "কেউ থাকবেনা, আপনি একা বসে এক মাসের অধিবেশন করবেন।" কিন্তু সেই অসাধ্য কাজ সুচারুভাবে সুসম্পন্ন হইল । ধন্যবাদ গুরুদেব, ধন্যবাদ পরমপিতা ।


      "গুরুনাথ সত্যধর্ম্ম মহামণ্ডল কেন্দ্র"- এর সর্ব্বশ্রেষ্ঠ রত্ন হইতেছে প্রবর্ত্তক গুরুদেব কর্তৃক প্রণীত "প্রোগ্রাম"। ইহার কথা আলাদা করে লিখব, এখন শুধু বলি যে এক গুরুপূজার পোগ্রাম যদি কেহ বুঝতে পারে, তবে তাহার উন্নতি তৎক্ষণাৎ হইবে।